চাঁদপুরে চলছে নাম্বার প্লেট ছাড়া সি এন জি-মহিলা যাত্রিদের সাথে অশালীন আচরণ

মতলব থেকে চাঁদপুর যাওয়ার পথে নাম্বারপ্লেট ছাড়া সি এন জি দুই মহিলা যাত্রীর সাথে অশালীন আচরণ করে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একজন মহিলা এর প্রতিকার চেয়ে ” আমরা মতলবের জনগণ” নামে একটি ফেজবুক গ্রুপে পোস্ট করেন। তার করা পোস্ট টি হু-বু-হু তোলে ধরা হলো-

প্রতিকার পাবো কি? আমি শান্তা ইসলাম পুষ্প। আমার বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলা রসুলপুর গ্রাম। গত ১২ আগস্ট রোজ বৃহস্পতিবার বেলা আনুমানিক ১১ টা থেকে সাড়ে ১১ টার মধ্যে মতলব ব্রিজ এর সামনে থেকে চাঁদপুরগামী একটি সিএনজিতে উঠি। উল্লেখ্য নিয়মিতভাবে সিরিয়াল মাফিক যেই সিএনজি গুলো চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় আমি এবং আমার বড় বোন সেই সিএনজিতে করে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হই। আমাদের চাঁদপুর যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল শারীরিক অসুস্থতা জনিত কারণে ডাক্তার দেখানো।

থিমধ্যে যাত্রীরা যার যার গন্তব্যে নেমে যাওয়ার পর সিএনজিতে অবশিষ্ট ছিলাম অসুস্থ আমি আর আমার বড় বোন। আমরা সকলেই জানি মতলব থেকে ছেড়ে আসা সিএনজি গুলোর লাস্ট গন্তব্য চাঁদপুর কালীবাড়ি স্টেশন। কিন্তু অন্যান্য যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর সিএনজির ড্রাইভার চাঁদপুর স্টুডিয়াম মোড় থেকে কিছুটা সামনে গিয়ে সিএনজি দাঁড় করায়। এবং আমাদেরকে সিএনজি থেকে নেমে যাওয়ার জন্য বলে। তখন আমি সিএনজি ড্রাইভার কে বলি যে আমি খুব অসুস্থ এখানে নেমে গেলে আমি কিভাবে যাব আপনি আমাদেরকে কালীবাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যাবেন। প্রতি উত্তরে সে আমাদেরকে বলে সামনের রাস্তা বন্ধ। তখন আমার বড় বোন বলল আপনি সিএনজিটা ঘুরিয়ে ভিতর দিয়ে চলে যান। কিন্তু ড্রাইভার তাতে রাজি হলো না আমাদের সাথে হঠাৎ করেই একটু বাজে ভাষায় কথা বলা শুরু করলো। তখন আমরা সিএনজিতে বসে থাকা অবস্থায় ড্রাইভারকে একশত টাকা দিলাম। সে টাকাটা হাতে নিয়ে আমাদেরকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকল। ভাড়া যদি কম হয়ে থাকতো সে আমাদেরকে বলতে পারতো কিন্তু তা না করে এত অশালীন ভাষা ব্যবহার করছিল যা এখানে উল্লেখ করা সম্ভব হচ্ছে না। সেই সাথে তাৎক্ষণিক সে সিএনজিটি উল্টো পথে ঘুরিয়ে সজোরে টেনে চলে আসছিল পিছনের দিকে। আমি এবং আমার বোন বারবার ড্রাইভারকে সিএনজি থামানোর জন্য বলছি এবং এটাও বলছি যে আমাদেরকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? প্রতি উত্তরে সে আমাদেরকে বলছে তোদেরকে জায়গামতো নিয়ে যাচ্ছি তারপর তোদেরকে মজা বুঝাবো।

তার এই কর্মকাণ্ড দেখে এবং অশালীন কথাবার্তায় আমরা খুব ভয় পেয়ে গেলাম। সে কোনভাবেই আমাদের কথা শুনতে ছিল না। এক পর্যায়ে সিএনজি নিয়ে এসে প্রায় স্টুডিয়াম এর মোড় পর্যন্ত চলে এসেছে। তখন হালকা একটু জ্যাম ছিল বিদায় ড্রাইভার সিএনজি টা একটু স্লো করে আর এই সুযোগে আমি এবং আমার বোন দ্রুত সিএনজি থেকে নেমে আসি। আমরা তার সিএনজি থেকে নেমে যাওয়ায় সেও সিএনজি সাইডে দাঁড় করিয়ে আমাদেরকে ব্যারিকেড দিয়ে দাঁড়ায় এবং আমাদেরকে আবারো গালিগালাজ শুরু করে। তখন আমাদের সহযোগিতার জন্য কয়েকজন সামনে এগিয়ে আসে তাদেরকে বলার পর সিএনজি ড্রাইভার আরো উত্তেজিত হয়ে যায় এবং ওই লোকদেরকে ও এখানে নাক গলানোর জন্য নিষেধ করে। আমি তাৎক্ষণিক সিএনজির পিছনে নাম্বার প্লেটের দিকে লক্ষ্য করি। কিন্তু দেখলাম পিছনে কোন নাম্বার প্লেট নাই। তারপর আমি সিএনজিটি সামনের দিকে আসি সামনেও কোন নাম্বার প্লেট দেখতে পেলাম না সিএনজিটির। আমি অবাক হয়ে গেলাম এই কথাটি ভেবে যে একটি নাম্বার প্লেট বিহীন সিএনজি কিভাবে চলাচল করছে?

ডাক্তার দেখানোর পর যখন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করলাম তখন নিজেকে খুব অসহায় মনে হল। একজন সিএনজির ড্রাইভার কোন কারণ ছাড়া কেন আমাদের সাথে এরকম আচরণ করল? তার আসল উদ্দেশ্য কি ছিল? আবার এটা ভেবে ভয় লাগলো যে তারতো গাড়ির কোন নাম্বার প্লেট ছিলনা তাকে সনাক্ত করার কোনো মাধ্যম ছিল না। গাড়িতে শেষ পর্যন্ত আমরা দুই বোন ছিলাম যদি কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনার শিকার হতাম তাহলে এর দায় কে নিতো? তাৎক্ষণিকভাবে মনে হল এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু গাড়ির নাম্বার প্লেট না থাকায় আমি কমপ্লেন টি কিভাবে করব বা কোথায় করব তা বুঝে উঠতে পারছিনা। গত ১২ তারিখের ঘটনাটি আমাকে মানসিকভাবে খুব যন্ত্রণা দিচ্ছে। আমি খুব অসহায় বোধ করছি যে, এরকম বাজে ব্যবহারকারী এবং নাম্বার প্লেট বিহীন একজন ড্রাইভারকে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ এর মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে পারলাম না বলে।

এখন আমার মনে প্রশ্ন জাগছে মতলব থেকে চাঁদপুরগামী সিএনজি গুলো এবং চাঁদপুর থেকে মতলবগামী সিএনজি গুলো অধিকাংশই কি নাম্বার প্লেট বিহীন চলাচল করছে? আর যদি তাই হয় তাহলে কিভাবে সম্ভব? জানিনা আমার এই লেখাটা যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে কিনা তবে যারা আমার এই লেখাটা কষ্ট করে পড়লেন তাদেরকে অনুরোধ করব রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন এর পাশাপাশি গাড়ির নাম্বার প্লেট আছে কিনা তা খেয়াল করবেন। আর যদি নাম্বার প্লেট বিহীন কোন সিএনজি মতলবের কোন রুটে চলাচল করতে দেখেন তাহলে সমষ্টিগত ভাবে এর প্রতিবাদ করবেন। অনেক সময় আমরা শুনতে পাই বিভিন্ন জায়গায় সিএনজি চুরি হচ্ছে আবার অনেক জায়গায় বিভিন্ন চুরি-ডাকাতি সহ অপরাধমূলক কাজে এই নাম্বার প্লেট বিহীন সিএনজি গুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাই নাম্বার প্লেট বিহীন সিএনজি মতলব রোড চালানো বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

সেই সাথে আমাদের সাথে বাজে ব্যবহার কারি সিএনজি ড্রাইভার কে খুঁজে বের করে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেয়ার কোনো সুযোগ আছে কিনা এ ব্যাপারে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ড্রাইভার এর নাম এবং গাড়ির নাম্বার প্লেট ছিল না বিধায় কোন উপায় খুঁজে বের করতে পারছিনা। তবে মতলব ব্রিজ থেকে সিএনজিটি সিরিয়াল মাফিক বেলা এগারোটা থেকে সাড়ে এগারোটা টার মধ্যে চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে এতটুকু তথ্যের মাধ্যমে যদি এই ড্রাইভারকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয় তাহলে প্লিজ সহযোগিতা করুন। তাকে খুঁজে বের করতে পারলে এরকম একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন যেন ভবিষ্যতে এই রুটে আমাদের মা বোনরা নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *