পেগাসাস তদন্তের দাবি এডিটরস গিল্ডের

পেগাসাস–কাণ্ডে তদন্তের দাবিতে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো ভারতের এডিটরস গিল্ড। সাংবাদিকদের এই সংস্থার পাশাপাশি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন আরও পাঁচ সাংবাদিক।

পেগাসাস প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁদের ফোনে আড়িপাতা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টর প্রধান বিচারপতি এন ভি রামনা ইতিমধ্যেই বলেছেন, আগামী বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত মামলা শুনবেন। তার আগে একের পর এক নতুন মামলা এই অভিযোগের গুরুত্ব বাড়িয়ে তুলেছে।

এডিটরস গিল্ড গতকাল মঙ্গলবার যে আবেদন জানিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট যেন অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দেন। সংস্থার আরজি, এ–সংক্রান্ত চুক্তির বিষয় সরকারকে জানাতে সর্বোচ্চ আদালত বাধ্য করুন। কাদের ফোন এই নজরদারির আওতায় রয়েছে বা ছিল, সেই তালিকাও সরকার দাখিল করুক। এডিটরস গিল্ডের আরও আবেদন, ১৯৫১ সালের ইন্ডিয়ান টেলিগ্রাফ আইনের বিধি ও ২০০০ সালের তথ্যপ্রযুক্তি আইন, যা কিনা নজরদারির অধিকার সরকারকে দিয়েছে, তা অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হোক।

এডিটরস গিল্ডের এই আবেদনের পাশাপাশি মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের শরণাপন্ন হন এমন পাঁচ সাংবাদিক, যাঁদের ফোন এই নজরদারির আওতায় ছিল বলে খবর ছড়ায়। এই সাংবাদিকেরা হলেন প্রবীণ সম্পাদক প্রেমশঙ্কর ঝা, পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা, এস এন এম আবদি, রূপেশকুমার সিং ও ইপসা শতাক্ষী। এই পাঁচজনই তাঁদের ফোন পেগাসাস–কাণ্ড নিয়ে তদন্তকারী সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন ময়নাতদন্তের জন্য।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পরীক্ষাগারে ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার পর জানানো হয়, প্রতিটি ফোনেই পেগাসাস প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালানো হয়েছিল। পাঁচ সাংবাদিক সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, তাঁদের ফোন ভারত সরকার বা তৃতীয় কোনো পক্ষ মারফত হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে বলে ধারণা। প্রকৃত অবস্থা কী, তা সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হোক। ভারত সরকার এখনো পেগাসাস স্পাইওয়্যার কেনার কথা স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি।

পাঁচ সাংবাদিক সুপ্রিম কোর্টকে বলেছেন, পাঁচটি নির্দিষ্ট বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিন। প্রথমটি হচ্ছে পেগাসাস স্পাইওয়্যারের মতো প্রযুক্তির ব্যবহার বেআইনি ঘোষণা। দ্বিতীয়টি আবেদনকারীদের বিরুদ্ধে পেগাসাস ব্যবহারের সরকারি নির্দেশ ও তদন্তের সবকিছু সুপ্রিম কোর্ট ও আবেদনকারীদের জানানো হোক। তৃতীয়টি হলো এ ধরনের প্রযুক্তি থেকে দেশের নাগরিকদের বাঁচাতে সরকারকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হোক। চতুর্থটি হচ্ছে বেআইনিভাবে নজরদারির সঙ্গে যুক্ত কর্তাদের শাস্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা তৈরি হোক এবং পঞ্চমটি হলো নাগরিক অধিকার ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় যেকোনো নির্দেশ জারি করা হোক।

পেগাসাস–কাণ্ডে একের পর এক মামলা দায়ের হওয়ায় সরকার ও সুপ্রিম কোর্টের ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে। ইতিমধ্যে মোট পাঁচটি আবেদন সর্বোচ্চ আদালতে জমা পড়েছে। আইনজীবী এম এল শর্মা, কেরালার সিপিএম সাংসদ জন ব্রিটাস, দুই সাংবাদিক এন রাম ও শশী কুমারের আবেদন আগে জমা পড়েছিল। মঙ্গলবার সেই সঙ্গে যুক্ত হলো পাঁচ সাংবাদিক ও এডিটরস গিল্ডের আবেদন। পুরো বিরোধী পক্ষ সংসদের অধিবেশন অচল করে রেখেছে এ বিষয়ে আলোচনার দাবিতে। অথচ সরকার নীরব। তারা এ নিয়ে কোনো রকম আলোচনাতেই উৎসাহী নয়। সংসদীয় মন্ত্রী জানিয়েছেন, তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রীর বিবৃতির পর এ নিয়ে আলোচনার আর কোনো অবকাশ নেই। এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট কী বলেন, সেদিকেই সবার দৃষ্টি নিবদ্ধ।

বিরোধীদের পাশাপাশি সরকারের বিড়ম্বনা বাড়িয়েছেন এনডিএর শরিক সংযুক্ত জনতা দলের নেতা ও বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিতীশ কুমার। মঙ্গলবার তাঁরই মতো তদন্তের দাবিতে মুখ খুলেছেন বিহারে বিজেপির আরও এক শরিক হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চার নেতা সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জিতেন রাম মাঝি। এক টুইটে তিনি বলেছেন, পেগাসাসের তদন্ত হওয়া জরুরি। কারণ, তদন্ত হলেই বোঝা যাবে কারা কাদের ওপর নজরদারি করছে এবং কী কারণে।

সুত্রঃ প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *