ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দমন–পীড়ন বেড়েছে সৌদিতে

সৌদি সরকার ভিন্নমতাবলম্বী ও মানবাধিকারকর্মীদের ওপর দমন অভিযান বাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল মঙ্গলবার মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, গত বছর জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হলেও সৌদি সরকার পুনরায় তৎপরতা জোরদার করেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

অ্যামনেস্টির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি সরকার গত বছরের শেষ দিকে জি-২০ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করলেও ছয় মাস ধরে নির্লজ্জভাবে দেশটির মানবাধিকারকর্মী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে।

সংস্থাটি বলছে, সৌদির রাজতান্ত্রিক সরকার অন্তত ১৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ড দিয়েছে। এদের মধ্যে অনেককেই পুরোপুরি একটা অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিশেষ অপরাধ আদালত এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

অ্যামনেস্টি আরও জানিয়েছে, এর আগের বছরের তুলনায় গত বছর মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা ৮৫ শতাংশ কমেছে। কিন্তু তারপরেও এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৪০ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ২০২০ সালের চেয়ে বেশি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক (গবেষণা) লিন মালাউফ বলেন, জি-২০ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরেই বিষয়টি ধীরে ধীরে আড়াল হয়ে যায়। এরপরেই মুক্তমত প্রকাশকারী এবং সরকারের সমালোচকদের ওপর সৌদি সরকার পুনরায় নির্যাতন শুরু করে।

এসব ঘটনার একটি উদাহরণ দিয়ে লিন মালাউফ বলেন, সৌদি সরকারের অর্থনৈতিক নীতিমালার সমালোচনা করে টুইট করায় এক মানবাধিকারকর্মীকে দেশটি ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।

মাঝেমধ্যে কিছু কিছু অধিকারকর্মীকে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেও তাঁদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর মধ্যে প্রখ্যাত নারী অ্যাকটিভিস্ট লুজাইন আল-হাথলুলের ওপর পাঁচ বছরের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির সরকার।

সুত্রঃ প্রথম আলো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *