Homeআপনি জানেন কিভূমিকম্প কী, কেন হয় এবং ভূমিকম্প হলে করণীয় কী?

ভূমিকম্প কী, কেন হয় এবং ভূমিকম্প হলে করণীয় কী?

ভূমিকা

ভূমিকম্প এমন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যা সাধারণত আগে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের কম্পনও মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি, রাস্তা, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বড় ক্ষতি করতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে আগে থেকেই সচেতন থাকা, পরিবারের সবাইকে করণীয় শেখানো এবং জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো ভয় পেয়ে দৌড়াদৌড়ি করা। সঠিক নিয়ম জানা থাকলে নিজের, পরিবারের, শিশুদের ও প্রবীণদের জীবন রক্ষা করা অনেক সহজ হয়।

ভূমিকম্প কী?

ভূমিকম্প হলো পৃথিবীর ভেতরে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ মুক্ত হয়ে মাটির কম্পন সৃষ্টি করা। সহজভাবে বললে, পৃথিবীর নিচের স্তরে বড় বড় পাথরের প্লেট বা টেকটোনিক প্লেট ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। কখনও এই প্লেটগুলো একে অন্যের সঙ্গে আটকে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চাপ জমতে থাকে। একসময় সেই চাপ হঠাৎ মুক্ত হলে মাটিতে কম্পন অনুভূত হয়—এটাই ভূমিকম্প।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলকে বলা হয় উৎপত্তিস্থল বা Epicenter। উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি এলাকায় কম্পন সাধারণত বেশি অনুভূত হয়।

ভূমিকম্প কেন হয়?

ভূমিকম্প হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো—

১. টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়া

পৃথিবীর বাইরের স্তর কয়েকটি বড় প্লেটে বিভক্ত। এই প্লেটগুলো খুব ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। প্লেটের সংঘর্ষ, সরে যাওয়া বা একটির নিচে অন্যটি ঢুকে যাওয়ার কারণে ভূমিকম্প হতে পারে।

২. ভূগর্ভস্থ ফল্ট লাইনে চাপ জমা

পৃথিবীর ভেতরে অনেক ফাটল বা ফল্ট লাইন আছে। এসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে চাপ জমে থাকে। চাপ বেশি হলে হঠাৎ ফাটল বরাবর সরে গিয়ে ভূমিকম্প হয়।

৩. আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ

কিছু ক্ষেত্রে আগ্নেয়গিরির ভেতরের চাপ ও লাভার চলাচলের কারণেও ভূমিকম্প হতে পারে।

৪. মানবসৃষ্ট কারণ

বড় বাঁধ, খনি খনন, গভীর ড্রিলিং, ভূগর্ভস্থ বিস্ফোরণ বা অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের কারণেও কিছু এলাকায় ছোট বা মাঝারি মাত্রার কম্পন হতে পারে।

ভূমিকম্পের সময় কী করবেন?

ভূমিকম্প শুরু হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো—

“নিচু হন, আশ্রয় নিন, শক্ত করে ধরে থাকুন”

ইংরেজিতে একে বলা হয় Drop, Cover, and Hold On

ঘরের ভেতরে থাকলে

১. দ্রুত মাটিতে বসে পড়ুন বা হাঁটু গেড়ে নিচু হন।
২. মজবুত টেবিল, ডেস্ক বা খাটের পাশে/নিচে আশ্রয় নিন।
৩. মাথা ও ঘাড় দুই হাত দিয়ে ঢেকে রাখুন।
৪. টেবিল বা আশ্রয় নেওয়া জিনিস শক্ত করে ধরে থাকুন।
৫. জানালা, কাচ, আলমারি, ফ্রিজ, ভারী শোকেস, ঝুলন্ত ফ্যান, লাইট বা ভারী ছবির ফ্রেম থেকে দূরে থাকুন।
৬. কম্পন চলাকালে সিঁড়ি বা লিফটে যাবেন না।
৭. দরজার ফ্রেমে দাঁড়ানো নিরাপদ—এমন ধারণা অনেক সময় ভুল। আধুনিক ভবনে দরজার ফ্রেম সবসময় নিরাপদ আশ্রয় নয়। বরং মাথা-ঘাড় ঢেকে মজবুত টেবিলের নিচে থাকা বেশি নিরাপদ।

বহুতল ভবনে থাকলে

১. কম্পন চলাকালে নিচে নামার চেষ্টা করবেন না।
২. লিফট ব্যবহার করবেন না।
৩. জানালা, বারান্দা ও বাইরের দেয়াল থেকে দূরে থাকুন।
৪. কম্পন বন্ধ হলে সিঁড়ি ব্যবহার করে ধীরে ধীরে বের হন।
৫. বের হওয়ার আগে জুতা পরে নিন, কারণ কাচ বা ভাঙা জিনিস পায়ে বিঁধতে পারে।

বাইরে থাকলে

১. খোলা জায়গায় চলে যান।
২. ভবন, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গাছ, সাইনবোর্ড, দেয়াল ও নির্মাণাধীন ভবন থেকে দূরে থাকুন।
৩. মাথা ঢেকে নিচু হয়ে থাকুন।
৪. কম্পন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ জায়গায় অপেক্ষা করুন।

গাড়িতে থাকলে

১. রাস্তার পাশে নিরাপদ জায়গায় গাড়ি থামান।
২. ব্রিজ, ওভারপাস, ফ্লাইওভার, বড় গাছ, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ভবনের পাশে গাড়ি থামাবেন না।
৩. গাড়ির ভেতরেই থাকুন।
৪. কম্পন বন্ধ হলে সতর্কভাবে গাড়ি চালান, কারণ রাস্তা ফেটে যেতে পারে বা বৈদ্যুতিক তার পড়ে থাকতে পারে।

ভূমিকম্পের সময় কী করবেন না?

১. আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াদৌড়ি করবেন না।
২. কম্পন চলাকালে সিঁড়ি দিয়ে নামবেন না।
৩. লিফট ব্যবহার করবেন না।
৪. জানালা বা বারান্দার কাছে দাঁড়াবেন না।
৫. ভারী আলমারি, শোকেস, বুকশেলফ বা ঝুলন্ত জিনিসের পাশে থাকবেন না।
৬. গুজব ছড়াবেন না বা যাচাই না করা খবর শেয়ার করবেন না।
৭. ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে অনুমতি ছাড়া ঢুকবেন না।
৮. গ্যাসের গন্ধ পেলে ম্যাচ, লাইটার বা বৈদ্যুতিক সুইচ ব্যবহার করবেন না।
৯. শিশু বা প্রবীণকে কোলে নিয়ে দৌড়ানোর চেষ্টা করবেন না, যদি না খুব জরুরি হয়। আগে মাথা ও ঘাড় রক্ষা করুন।

ভূমিকম্পের পর করণীয়

ভূমিকম্প থেমে গেলেই বিপদ শেষ হয়ে যায় না। পরাঘাত বা Aftershock হতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।

ভূমিকম্পের পর যা করবেন

১. নিজের ও পরিবারের সদস্যদের আঘাত লেগেছে কিনা দেখুন।
২. গুরুতর আহত কাউকে অপ্রয়োজনে নাড়াচাড়া করবেন না।
৩. রক্তপাত হলে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে চাপ দিয়ে ধরুন।
৪. জুতা পরে চলাফেরা করুন।
৫. গ্যাসের গন্ধ, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা আগুনের ঝুঁকি আছে কিনা দেখুন।
৬. ভবনে বড় ফাটল থাকলে দ্রুত নিরাপদ জায়গায় যান।
৭. লিফট ব্যবহার করবেন না।
৮. জরুরি সেবার প্রয়োজন হলে বাংলাদেশে ৯৯৯ নম্বরে কল করুন।
৯. মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যস্ত থাকলে অপ্রয়োজনীয় কল না করে SMS/মেসেজ ব্যবহার করুন।
১০. সরকারি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র ছাড়া কোনো খবর বিশ্বাস বা শেয়ার করবেন না।

শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা

ভূমিকম্পের সময় শিশুরা বেশি ভয় পায় এবং অনেক সময় দৌড়ে মা-বাবার কাছে যেতে চায়। তাই আগে থেকেই তাদের সহজ ভাষায় শেখাতে হবে—ভূমিকম্প হলে দৌড়াবে না, নিচু হবে, মাথা ঢাকবে, টেবিলের নিচে যাবে।

শিশুদের জন্য করণীয়

১. শিশুদের “নিচু হও, মাথা ঢাকো, ধরে থাকো” নিয়মটি খেলাচ্ছলে শেখান।
২. স্কুল ও বাসায় বছরে কয়েকবার ভূমিকম্প মহড়া করা উচিত।
৩. শিশুর স্কুলব্যাগে পরিচয়পত্র, অভিভাবকের ফোন নম্বর ও ঠিকানা রাখা যেতে পারে।
৪. ছোট শিশুর জন্য জরুরি ব্যাগে ডায়াপার, দুধ/ফর্মুলা, পানি, শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও অতিরিক্ত কাপড় রাখুন।
৫. শিশুকে জানালার পাশে ঘুমাতে দেবেন না, বিশেষ করে যেসব ঘরে ভারী কাচ বা ঝুলন্ত জিনিস আছে।
৬. শিশুর বিছানার পাশে ভারী শোকেস, আলমারি বা দেয়ালে ভারী ফ্রেম ঝুলিয়ে রাখবেন না।
৭. ভূমিকম্পের পর শিশুকে শান্ত করুন, বকাঝকা করবেন না।
৮. শিশুর সামনে আতঙ্কিত আচরণ না করে ধীরে, স্পষ্ট ও শান্তভাবে কথা বলুন।
৯. শিশু হারিয়ে গেলে কোথায় যাবে বা কাকে ফোন করবে—এটি আগে থেকেই শেখান।
১০. স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ পরিকল্পনা জেনে রাখুন।

প্রবীণ বা মুরুব্বীদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা

প্রবীণদের অনেকের হাঁটাচলায় সমস্যা, চোখে কম দেখা, কানে কম শোনা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা নিয়মিত ওষুধের প্রয়োজন থাকতে পারে। তাই তাদের জন্য আলাদা প্রস্তুতি জরুরি।

প্রবীণদের জন্য করণীয়

১. বিছানার পাশে টর্চলাইট, জুতা, চশমা, মোবাইল ও প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখুন।
২. হাঁটার লাঠি, ওয়াকার বা হুইলচেয়ার সহজে হাতের কাছে রাখুন।
৩. নিয়মিত খাওয়া ওষুধের অন্তত ৩–৭ দিনের অতিরিক্ত স্টক রাখুন।
৪. ওষুধের নাম, রোগের তথ্য, ডাক্তারের নম্বর ও পরিবারের জরুরি নম্বর একটি কাগজে লিখে রাখুন।
৫. প্রবীণ ব্যক্তি একা থাকলে প্রতিবেশী বা আত্মীয়দের নিয়ে একটি সহায়তা পরিকল্পনা করুন।
৬. কম্পন চলাকালে প্রবীণকে জোর করে দৌড় করাবেন না। আগে মাথা ও ঘাড় রক্ষা করুন।
৭. হুইলচেয়ারে থাকলে চাকা লক করে মাথা-ঘাড় ঢেকে রাখুন।
৮. ভূমিকম্পের পর ধীরে ধীরে নিরাপদ স্থানে নিন।
৯. ভয়, শ্বাসকষ্ট, বুক ব্যথা, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা নিন।
১০. তাদের ঘরের চলাচলের পথ সবসময় খালি রাখুন, যাতে জরুরি সময়ে বের হতে সুবিধা হয়।

ঘরবাড়িতে আগে থেকে যে প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি

ভূমিকম্পের ক্ষতি কমাতে আগে থেকেই ঘর নিরাপদ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

ঘরের নিরাপত্তা প্রস্তুতি

১. ভারী আলমারি, বুকশেলফ ও শোকেস দেয়ালের সঙ্গে মজবুতভাবে আটকান।
২. গ্যাস সিলিন্ডার নিরাপদ জায়গায় রাখুন।
৩. বিছানার মাথার ওপরে ভারী ফ্রেম, আয়না বা শোকেস রাখবেন না।
৪. জানালার পাশে শিশুর বিছানা বা প্রবীণের বিছানা না রাখাই ভালো।
৫. জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখুন।
৬. পরিবারের সবাইকে জরুরি বের হওয়ার পথ দেখিয়ে দিন।
৭. বাড়ির সবাইকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির মূল সুইচ কোথায়—তা জানিয়ে রাখুন।
৮. বাড়ির নিচে বা আশেপাশে নিরাপদ খোলা জায়গা চিহ্নিত করে রাখুন।
৯. পরিবারের সদস্যদের জন্য একটি নির্দিষ্ট মিলনস্থল ঠিক করুন।
১০. বাসা, অফিস ও স্কুলে ভূমিকম্প মহড়া করা উচিত।

জরুরি ব্যাগে কী কী থাকবে?

প্রতিটি পরিবারে একটি জরুরি ব্যাগ থাকা উচিত। ব্যাগটি এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে সহজে পাওয়া যায়।

জরুরি ব্যাগের প্রয়োজনীয় জিনিস

১. পানি
২. শুকনো খাবার
৩. টর্চলাইট
৪. অতিরিক্ত ব্যাটারি
৫. পাওয়ার ব্যাংক
৬. প্রাথমিক চিকিৎসা বাক্স
৭. নিয়মিত ওষুধ
৮. শিশুদের খাবার ও ডায়াপার
৯. প্রবীণদের ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন
১০. পরিচয়পত্রের কপি
১১. কিছু নগদ টাকা
১২. বাঁশি
১৩. মাস্ক
১৪. স্যানিটারি ন্যাপকিন
১৫. ছোট রেডিও, যদি থাকে
১৬. প্রয়োজনীয় ফোন নম্বর লিখে রাখা কাগজ
১৭. অতিরিক্ত কাপড়
১৮. সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার

স্কুল, অফিস ও মার্কেটে থাকলে করণীয়

স্কুলে

শিক্ষকরা শিশুদের শান্ত রাখবেন। শিক্ষার্থীদের বেঞ্চ বা টেবিলের নিচে যেতে বলবেন। কম্পন বন্ধ হওয়ার পর সারিবদ্ধভাবে খোলা জায়গায় নেওয়া উচিত। অভিভাবকদেরও স্কুলের জরুরি পরিকল্পনা সম্পর্কে জানা প্রয়োজন।

অফিসে

ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন। জানালা, কাচের পার্টিশন ও ভারী ফাইল ক্যাবিনেট থেকে দূরে থাকুন। কম্পন থামার আগে বের হওয়ার চেষ্টা করবেন না।

মার্কেট বা শপিং মলে

শোকেস, কাচের দেয়াল, এসকেলেটর ও লিফট থেকে দূরে থাকুন। মাথা ঢেকে নিচু হয়ে থাকুন। কম্পন বন্ধ হলে নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা মেনে বের হন।

ভূমিকম্প নিয়ে ভুল ধারণা

ভুল ধারণা ১: দরজার ফ্রেম সবচেয়ে নিরাপদ

সবসময় নয়। আধুনিক ভবনে দরজার ফ্রেম আলাদা করে শক্ত নাও হতে পারে। তাই মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়া বেশি নিরাপদ।

ভুল ধারণা ২: ভূমিকম্প হলে দ্রুত বাইরে দৌড়াতে হবে

কম্পন চলাকালে বাইরে দৌড়ালে দেয়াল, কাচ, ইট, সাইনবোর্ড বা বৈদ্যুতিক তার পড়ে আঘাত লাগতে পারে।

ভুল ধারণা ৩: ছোট ভূমিকম্প হলে কোনো সমস্যা নেই

ছোট কম্পনের পর বড় কম্পন বা পরাঘাত হতে পারে। তাই সবসময় সতর্ক থাকা দরকার।

ভুল ধারণা ৪: শুধু বড় ভবনেই ঝুঁকি

ভূমিকম্পে ছোট ভবন, পুরোনো ঘর, দেয়াল, ছাদ, বৈদ্যুতিক খুঁটি, গ্যাস লাইন—সবকিছুই ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

সচেতনতা কেন জরুরি?

ভূমিকম্প থামানো মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু সচেতনতা, প্রস্তুতি ও সঠিক আচরণ অনেক জীবন বাঁচাতে পারে। পরিবারের সবাই যদি আগে থেকেই জানে কে কী করবে, কোথায় আশ্রয় নেবে, জরুরি ব্যাগ কোথায় রাখা আছে, শিশু ও প্রবীণদের কে সাহায্য করবে—তাহলে ক্ষতি অনেক কমানো সম্ভব।

পরিবারের জন্য ছোট ভূমিকম্প পরিকল্পনা

১. বাসার নিরাপদ জায়গা চিহ্নিত করুন।
২. পরিবারের সবাইকে “নিচু হও, আশ্রয় নাও, ধরে থাকো” নিয়ম শেখান।
৩. জরুরি ব্যাগ প্রস্তুত রাখুন।
৪. শিশু ও প্রবীণদের জন্য আলাদা দায়িত্ব নির্ধারণ করুন।
৫. জরুরি নম্বর লিখে দৃশ্যমান স্থানে রাখুন।
৬. মাসে অন্তত একবার পরিবারের সঙ্গে জরুরি মহড়া করুন।
৭. বাসার ভারী আসবাবপত্র নিরাপদভাবে স্থাপন করুন।
৮. গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরাপত্তা নিয়ম শিখুন।
৯. গুজব নয়, নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুসরণ করুন।
১০. ভূমিকম্পের পর পরাঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকুন।

উপসংহার

ভূমিকম্প একটি হঠাৎ ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি থাকলে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়। শিশু, প্রবীণ, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপত্তা আগে থেকেই পরিকল্পনায় রাখতে হবে। ভূমিকম্প হলে আতঙ্ক নয়—সচেতনতা, ধৈর্য ও সঠিক পদক্ষেপই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।

মনে রাখুন:
ভূমিকম্পের সময় দৌড় নয়, আগে নিজেকে নিরাপদ করুন। নিচু হন, মাথা ঢাকুন, মজবুত আশ্রয় নিন এবং কম্পন থামা পর্যন্ত ধরে থাকুন।

FAQ: ভূমিকম্প নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

ভূমিকম্প হলে প্রথমে কী করতে হবে?

প্রথমে নিচু হয়ে মাথা ও ঘাড় ঢাকতে হবে। সম্ভব হলে মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিতে হবে।

ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার করা যাবে?

না। ভূমিকম্পের সময় বা ঠিক পরে লিফট ব্যবহার করা উচিত নয়।

শিশুদের কীভাবে প্রস্তুত করব?

খেলাচ্ছলে “নিচু হও, মাথা ঢাকো, ধরে থাকো” নিয়ম শেখান এবং বাসা/স্কুলে মহড়া করুন।

প্রবীণদের জন্য সবচেয়ে জরুরি প্রস্তুতি কী?

ওষুধ, চশমা, লাঠি/ওয়াকার, টর্চলাইট, জরুরি নম্বর এবং সহায়তাকারী ব্যক্তির পরিকল্পনা আগে থেকেই রাখতে হবে।

ভূমিকম্পের পর কী করব?

আহতদের সহায়তা করুন, গ্যাস/বিদ্যুৎ ঝুঁকি দেখুন, ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকুন এবং জরুরি প্রয়োজন হলে ৯৯৯-এ যোগাযোগ করুন।

Source: Internet & AI, Picture: Internet

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments