আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইসরায়েল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকরে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতাকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বৃহত্তর চুক্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখতে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লিতানি অঞ্চল থেকে তাদের সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে এবং সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের হামলা বন্ধ করতে হবে। যদিও গত মাসেও উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, এরপরও সীমান্তে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে কুয়েতে সাম্প্রতিক হামলা। কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এতে একজন নিহত ও অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও সামনে এসেছে।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং খুব শিগগিরই ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। তিনি জানান, ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে চালু করা এবং আঞ্চলিক সংঘাত কমানোর বিষয়ে কাজ করছে।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, আলোচনা বন্ধ হয়নি, তবে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। তেহরান দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে সংঘাত বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে তা শুধু সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনবে না, বরং ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমানোর পথও সুগম করতে পারে। তবে পরিস্থিতি এখনো নাজুক এবং নতুন কোনো সংঘর্ষ পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আবারও অস্থির করে তুলতে পারে।
সূত্র: Reuters
ছবি: Representational / AI Generated



